ঘুষ দাবির অভিযোগে কক্সবাজারের দুই এডিসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি

ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঘুষ দাবির অভিযোগে দুর্নীতির দমন প্রতিরোধ আইনে কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট নথি তলবের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক মো. আবদুর রহিম এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালে মহেশখালীর ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরে দেনাদার টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত বিবাদীকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে বরাদ্দ অর্থ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাওনা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ নানা অজুহাতে বিষয়টি আটকে রাখেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আবারও অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিন আহমদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব যোগসাজশে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

এ ঘটনায় পুনরায় আদালতে আবেদন করলে বিচারিক হাকিম মো. আবদুর রহিম মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আদালতের আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদী।