১৫৪টি প্রতিমাপূজা, ১৭০টি ঘটপূজা
গত বছরের চেয়ে মণ্ডপ বেড়েছে ৬টি
কক্সবাজার প্রতিনিধি
দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন চলছে। এর মধ্যে ১৫৪টি প্রতিমাপূজার মণ্ডপ এবং ১৭০টি ঘটপূজার মণ্ডপ। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব। দুর্গোৎসব ঘিরে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে প্রস্তুতি চলছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ চকরিয়া উপজেলায় ৭১টি। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালীতে ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৬টি, চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি, পেকুয়ায় ৯টি, উখিয়ায় ৯টি, মহেশখালী পৌরসভায় ৬টি এবং টেকনাফে ৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আইনজীবী বাপ্পি শর্মা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপের কমিটি কাজ করছে।
প্রতিবারের মতো এবারও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সম্প্রীতির মিলনমেলা হবে। এ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের দাবি, বিসর্জন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিশেষায়িত সংস্থার সদস্যরাও কাজ করছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, জেলার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসবও সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক স্বপন গুহ বলেন, দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। এবার পূজার ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পেশাজীবীরা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন। পাশাপাশি মণ্ডপপ্রতি সরকারি অনুদানও বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।












