কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে আবারো স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পালংখালী সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চাকমাকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত ইউনুছ উখিয়ার ক্যাম্প-১৯-এর ব্লক ডি/২-এর বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, ইউনুছের ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি শামসুল আলম বলেন, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেড়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় যাতায়াত করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যা চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পের কোনো রোহিঙ্গার সীমান্তে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে কেউ কেউ সীমান্ত অতিক্রম করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।”
বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের সীমান্ত এলাকায় না যাওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ১০ এপ্রিল সকালে একই এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হন। এর আগে ২৯ মার্চ দুপুরে ওই সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিম (১৫) নামের আরেক রোহিঙ্গা কিশোর আহত হয়।












