কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজারে ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত ১০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মেকআপ স্টুডিও এন্ড ট্রেনিং সেন্টার ‘গ্ল্যাম ডিভা বাই নওশাবা’র স্বত্বাধিকারী নওশাবা মোক্তার সিয়ামের (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) মামলাটি করা হয় বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী সুমন শর্মা। বর্তমানে কক্সবাজার সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সি.আর মামলা নং ৭৮৮/২০২৬ (সদর) হিসেবে দায়ের করা মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কক্সবাজার শহরের ‘নিটা কম্পিউটার এন্ড টেকনোলজি’ ও ‘নিটা স্মার্ট ফোন’-এর প্রোপ্রাইটর মো. আলমগীর হোসাইনের পক্ষে তার ম্যানেজার সুমন শর্মা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘এমকে এন্টারপ্রাইজ’-এর ব্যবসায়িক দেনা পরিশোধের জন্য গত ২ মার্চ প্রাইম ব্যাংক কক্সবাজার শাখার একটি ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে ৯ মার্চ চেকটি নগদায়নের জন্য মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় জমা দেওয়া হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় চেকটি ডিজঅনার করে ফেরত দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চেক ডিজঅনারের পর আইন অনুযায়ী আসামির বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় বাদীপক্ষ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি দায়ের করে।
এ বিষয়ে নওশাবা মোক্তার সিয়াম বলেন, “নিটা কম্পিউটারের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কোনো লেনদেন নেই। তাদের প্রতিষ্ঠানের মো. কাউছার নামের একজন ম্যানেজার আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার সঙ্গে আমার আলাদা একটি ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। তিনি ‘এমকে এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যেখানে ৭০ শতাংশ মালিকানা ছিল আমার। সেখানে তিনি ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।”
তিনি আরও বলেন, “গত জানুয়ারিতে ১০-১৫ দিন ধরে কাউছারের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। পরে তার পরিবারের মাধ্যমে জানতে পারি, ২০ লাখ টাকার গড়মিলের অভিযোগে নিটা কম্পিউটারের লোকজন তাকে আটকে রেখেছে। পরে কাউছার আমাকে জানায়, সে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিটা কম্পিউটার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছিল, যা মালিককে জানানো হয়েছিল। যেহেতু তাকে একপ্রকার অপহরণের মতো করে আটকে রাখা হয়েছিল, তাই আমি আমার প্রতিষ্ঠান ‘গ্ল্যাম ডিভা বাই নওশাবা’র একটি চেক দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সেটি নিয়ে মামলা হয়েছে। আমি শিগগিরই আদালতে যাবো।”
মামলার বাদী সুমন শর্মা বলেন, “নওশাবা মোক্তার সিয়াম মো. কাউছারকে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন এবং সে সময় একটি চেক প্রদান করেন। তবে পরে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়। আমরা এটিকে বড় ধরনের প্রতারণা হিসেবে দেখছি। তাই বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
তবে নওশাবা মোক্তার সিয়াম দাবি করেন, মো. কাউছারের সঙ্গে তার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নেই।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নওশাবা মোক্তার সিয়াম বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারের একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিযোগ করে বলেন, “তার লেনদেন অনেক খারাপ। আমি নিজেও ভুক্তভোগী। তিনি অনেক বাটপারি করেছেন। আগের রেকর্ডও ভালো না। ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকে টাকা তুলে প্রতারণা করেছেন।”
কামরান নামের একজন বলেন, “তার বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ আছে। টাকা নিয়ে ঠিকমত ক্লাস করান না তিনি। ”
এছাড়াও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে অর্থ সংগ্রহ করে তা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে বলে দাবি করছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এই নারী উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে।












