নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে। অনেকে ভোরের আলো ফুটতেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় করছেন কেন্দ্রে।
চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘যথাসময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নিরাপদ ভোটগ্রহণ শেষ করতে আমাদের সবরকমের প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণকে বলবো, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ভোটযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১৫ প্রার্থী। সেই লক্ষে নগরীসহ চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে এক হাজার ৯৬৫ ভোটকেন্দ্রে মোট ১২ হাজার একটি কক্ষ বা বুথ। এসব ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭০ জন।
নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, এবার ১ হাজার ৯৬৫টির মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এসব কেন্দ্র ঝুঁকি বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটির অবস্থান পুরোপুরি মহানগরীতে। ১০টি আসনের অবস্থান জেলায়। বাকি তিনটি আসন জেলা ও মহানগরীর কিছু অংশ মিলে আছে। মহানগরী ও নগরী সংলগ্ন উপজেলা মিলিয়ে মোট পাঁচটি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন। আর জেলার ১০টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং নগরীর একটি আসনের দায়িত্বে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।
এদিকে, মোট ১ হাজার ৯৬৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) ১৬ থানার আওতাধীন। বাকি ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার আওতাধীন। এছাড়াও চট্টগ্রামে মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। নগরীতে ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০ টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, আমরা কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছি না। আমরা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ কিংবা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বলছি। তবে এটা ঠিক যে, যেসব কেন্দ্র কিছুটা দুর্গম এলাকায়, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না, পাহাড়ি এলাকা অথবা সন্দ্বীপের বিচ্ছিন্ন এলাকা, সেগুলোতে ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আমরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছি। আবার অনেক ভোটকেন্দ্র উপজেলার মূল কেন্দ্র কিংবা শহরের কাছাকাছি হলেও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকদের মনোভাব, পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছি।
এসপি আরও বলেন, যেসব ভোটকেন্দ্রে আমরা মনে করছি যে বেশি নজরদারি প্রয়োজন, সেখানে আমাদের অতিরিক্ত ফোর্স রয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্সকে আমরা এমন এলাকায় মোতায়েন রাখব, যেন যেকোনো ঘটনার খবর পেলে ২-৪ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া, এসব ভোটকেন্দ্রের আশপাশে সার্বক্ষণিক টহল তো থাকবে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, এবার প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার–ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার–ভিডিপির সংখ্যা ১০ জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে এক থেকে দু’জন। সেইসঙ্গে থাকবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড। এছাড়া নির্বাচনে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনীও।
চট্টগ্রামে আসনভিত্তিক ভোটার ও ভোটকেন্দ্র:
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে এবার মোট ভোটার তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৬টি। চট্টগ্রাম-০২ (ফটিকছড়ি): আসনটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪০টি। চট্টগ্রাম-০৩ (সন্দ্বীপ): আসনটিতে মোট ভোটার দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৮৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৮৩টি। চট্টগ্রাম-০৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ): আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। চট্টগ্রাম-০৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ): আসনটিতে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১ হাজার ৯১৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৩টি।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): আসনটিতে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৯৫টি। চট্টগ্রাম-০৭ (রাঙ্গুনিয়া): আসনটিতে মোট ভোটার তিন লাখ ১৯ হাজার ৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৯২টি। চট্টগ্রাম-০৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ): আসনটিতে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৪টি। চট্টগ্রাম-০৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া): আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১২১টি। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী): আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৯টি।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৩টি। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৮টি। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১৮টি। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ): আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০০টি। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়ার একাংশ ও লোহাগাড়া): আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৭টি। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১২টি।












