সি-ট্রাক চালু, যাতায়াত ঝুঁকি কমবে পেকুয়া–কুতুবদিয়াবাসীর

কক্সবাজার
কক্সবাজার প্রতিবেদক :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উপকূলীয় দ্বীপ কুতুবদিয়া ও পেকুয়ার মানুষের যাতায়াতে যুক্ত হলো আধুনিক সি-ট্রাক সেবা। দুই উপজেলার এই নৌপথে অত্যাধুনিক সি-ট্রাক চালু হওয়ায় সময়, ঝুঁকি ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দ্বীপবাসীর যাতায়াতের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পেকুয়া–কুতুবদিয়া নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘এসটি ভাষা শহীদ জব্বার’ নামের অত্যাধুনিক সি-ট্রাকটি। নৌ যানটি উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনের পর দুপুর ১টায় সি-ট্রাকটি পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাট থেকে যাত্রা করে। দুপুর দেড়টার দিকে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ জেটিঘাটে পৌঁছায়। এ সময় নতুন এই নৌযানটি এক নজর দেখতে জেটিঘাটে ভিড় করেন সেখানকার বাসিন্দারা।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সি-ট্রাকটি পরিচালনা করা হবে। নৌপথে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
কুতুবদিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনির্ভরযোগ্য নৌযাত্রার কারণে পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। আধুনিক সি-ট্রাক চালু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।”
কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাজনীন সুলতানা বলেন, “আগে কুতুবদিয়া থেকে পেকুয়া হয়ে কলেজে যেতে হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চিত নৌযাত্রায় ভোগান্তি পোহাতে হতো। সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ত। সি-ট্রাক চালু হওয়ায় এখন যাতায়াত অনেক সহজ, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা রাখি। এতে পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলেও সুবিধা হবে।”
লবণ ব্যবসায়ী আবদুল আমিন বলেন, “কুতুবদিয়ার লবণ শিল্প এই অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও পরিবহন সংকটের কারণে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হতো। সি-ট্রাক চালু হওয়ায় এখন দ্রুত ও নিরাপদভাবে লবণ পরিবহন করা সম্ভব হবে। খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং ব্যবসা আরো সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ উপদেষ্টা বলেন, ‘‘উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আধুনিক নৌযান চালু করছে। পেকুয়া–কুতুবদিয়া এবং কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক চালুর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।’’
সি-ট্রাক উদ্বোধনের পর নৌ উপদেষ্টা বলেন, “আধুনিক সি-ট্রাক চালুর মাধ্যমে যাতায়াত হবে নিরাপদ, দ্রুত ও আরামদায়ক। ফলে সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। ভবিষ্যতে উপকূলীয় নৌপথে এ ধরনের নৌযানের সংখ্যা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজিম উদ্দীনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।