কক্সবাজার প্রতিনিধি
ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলাকে অজুহাত করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছেন।
এব্যাপারে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, “এই সিদ্ধান্ত চরম অন্যায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।”
তিনি জানান, হলফনামায় তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। এরপরও ২০১৩ সালের একটি আদালত অবমাননার মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা কোনো ফৌজদারি মামলার আওতায় পড়ে না।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া ওই মামলাটি পূর্বেও নির্বাচনি অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হয়নি। এমনকি সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদা করে ডেকে নতুন পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। এ সময় কিছু কর্মকর্তার আচরণও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে পক্ষপাতিত্ব ও পুরোনো রাজনৈতিক মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ২০০৮ সালে কক্সবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।












