কক্সবাজার প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১০ মাস পর আবারও পর্যটকদের জন্য রাত্রিযাপনসহ খুলে দেয়া ড়চ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট হয়ে দ্বীপমুখী জাহাজ চলাচল শুরু হবে। তবে পরিবেশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার শর্তে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি- এই দুই মাস প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটকের রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের বুকে ৮ বর্গকিলোমিটারের এই অনন্য দ্বীপে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ছিল। পরিবেশ প্রতিবেশ সংরক্ষণে গত বছর থেকে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। সেই নীতিমালার আওতায় এবারও নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সীমিত আকারে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন দেশি–বিদেশি পর্যটকরা।
জাহাজ মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাতের কারণে ২০২৩ সাল থেকে টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরে ইনানীর নৌবাহিনীর জেটিঘাট হয়ে চলাচল শুরু হলেও গত বছর থেকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকেই সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ পরিচালিত হচ্ছে।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যায়নি। ফলে জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে তারা আবারও যাত্রা শুরু করছেন। গত বছর এই দুই মাসে এক লাখের বেশি পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করেন বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন এই চারটি জাহাজকে সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মানতে হবে ১২ নির্দেশনা-
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপ ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
বিআইডব্লিউটিএ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করা যাবে না।
ট্যুরিস্টদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট কিউআর কোডসহ সংগ্রহ করতে হবে।
সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ বা বারবিকিউ–সবই নিষিদ্ধ।
কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, প্রবাল, কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক–ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি–বাইকসহ মোটরচালিত যেকোনো যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক নেওয়া যাবে না; ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল বহনেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
এদিকে রাত্রিযাপনসহ পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত করে দেওয়ায় উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে ওই দ্বীপে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘ ১০ মাস পর আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছি। ১ ডিসেম্বর থেকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আমাদের সেন্ট মার্টিন আসবেন। তাদের বরণে প্রস্তুত রয়েছি আমরা।’
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ‘রাত্রিযাপনের সুবিধাসহ পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত করায় এখনকার অর্থনীতি একটু ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছি। আমরা চাই শুধু দুই মাস নয়, অন্তত চার মাস পর্যটকদের জন্য রাত্রিযাপনসহ উন্মুক্ত করা হোক দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় জারি করা সব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন মাঠে থাকবে।












