তারেকুর রহমান, কক্সবাজার :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কক্সবাজারের পর্যটন অঞ্চলে নেমে এসেছে নীরবতা। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিস্থিতি থাকবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশেই বুকিং নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। কোথাও কোথাও তারকা হোটেলগুলোতে ১০–১৫ শতাংশ রুম বুকিং থাকলেও সাধারণ হোটেলগুলোতে বুকিং প্রায় নেই বললেই চলে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, নির্বাচন উপলক্ষে অনেকেই ভোট দিতে যার যার এলাকায় ফিরছেন, হোটেল খাতের কর্মীরাও এর বাইরে নন। নির্বাচন উপলক্ষে পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় পর্যটকদের ঘোরাফেরা সীমিত হয়েছে। তাই হোটেল-মোটেল জোন ও সমুদ্র সৈকত ফাঁকা রয়েছে।

ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনী পরিস্থিতি বিবেচনায় হোটেল-মোটেলে বুকিং কমেছে। তারকা হোটেলগুলোতে ১০–১৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তাদের বেশির ভাগ বিদেশি নাগরিক। দেশীয় পর্যটক তেমন নেই। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনী আবহ পর্যটন জোনে এক ধরনের নীরবতা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, কিছু সংখ্যক পর্যটক আনাচে কানাচে ঘুরছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর থেকে সপরিবারে আসা এক পর্যটক বলেন, “দুদিন আগে কক্সবাজারে এসেছি। ভোটের একদিন পরই ফিরে যাবো। আমাদের এক-দুইটা ভোটে বড় কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করি না। তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতেই চলে এসেছি।”
ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক রেহমান সাজিদ বলেন, “এই সময়ে কক্সবাজারে পর্যটক কম থাকবে এমনটা ভেবেই আসা। ভিড় কম থাকলে ভালোভাবে ‘এনজয়’ করা যায়। ভোট নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছি না, মনের মতো সময় কাটাতেই এসেছি।”
লাবণী পয়েন্টের চটপটি বিক্রেতা মো. আমান বলেন, “আমাদের দোকানগুলো মূলত স্থানীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসায় ধস নেমেছে। বেচাকেনা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
ঝিনুক ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “পর্যটক না থাকায় বিক্রি একেবারেই নেই। তাই আপাতত দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছি। ভোটের পর যদি পর্যটক বাড়ে, তখন আবার দোকান খুলবো।”
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ রয়েছে। সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটের সময় নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করা দৃষ্টিকটু। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা কাজ করছেন। ভোটের সময় নিজ এলাকায় অবস্থান করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার শহরেও কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি লক্ষ্য করা গেছে।
Related
আরও পড়ুন:
পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করে পাষন্ড স্বামী : স্বামীসহ আটক ৩
কক্সবাজার অঞ্চল পরিদর্শন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান
কক্সবাজার সদর মডেল থানার নতুন ওসি ইলিয়াস খান
কক্সবাজারে গুঁইসাপ উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করলেন ছাত্রদল নেতা
আওয়ামীলীগ একটি সন্ত্রাসবাদী, মাফিয়া দল -চকরিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমেদ
জরিমানা নয়, হোটেল বন্ধ করলে ফিরবে কক্সবাজারের পরিচ্ছন্নতা : উপদেষ্টা
আ’লীগের আমলে মানবাধিকার রক্ষার চেয়ে লঙ্ঘনের ঘটনাই বেশি ঘটেছে: আইন উপদেষ্টা
বিশ্ব পর্যটন দিবসে কক্সবাজারে উৎসবের আমেজ
কক্সবাজারে ফুফাতো ভাইয়ের হাতে মামাতো ভাই খুন
কক্সবাজার দেখার সাধ পূরণ হলো না তাদের
কক্সবাজার-১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ
চকরিয়ায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
