কক্সবাজার প্রতিনিধি
যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত সক্ষমতা যাচাই ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ মহড়া আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে ঘণ্টাব্যাপী এই মহড়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
মহড়ায় একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ জরুরি পরিস্থিতির বাস্তব অনুশীলন দেখানো হয়। এতে উপস্থাপন করা হয়—ঢাকা থেকে আগত একটি যাত্রীবাহী বিমানে শক্তিশালী বোমা রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। অবতরণ করা বিমানটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। কয়েক মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে একে একে যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের নেতৃত্বে বিমানের ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে একটি ব্রিফকেসে থাকা বোমা শনাক্ত করা হলে বিশেষজ্ঞ দল সেটি উদ্ধার করে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
মহড়া শেষে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্তে সহায়ক নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিয়মিত এমন মহড়ার মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
এ সময় তিনি ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ওই ঘটনায় বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, এপিবিএন, আনসার, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। ফলে সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যায়।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও এ ধরনের মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
মহড়ায় বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান এবং সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের মহড়া আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এমন মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।












