নতুন বছরের প্রথম সূর্যে আলোকিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি

নতুন বছরের প্রথম প্রভাত যেন কক্সবাজারে এনে দেয় আশার আলো আর স্বপ্নের বার্তা। কুয়াশা আর শীতল হাওয়ার আড়াল ভেদ করে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে উদিত সূর্যের সোনালি আলোয় ঝলমল করে ওঠে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত।

২০২৫ সালকে বিদায় জানানোর পর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে বছরের প্রথম সূর্যোদয় উপভোগ করতে ভোর থেকেই সৈকতে জড়ো হন হাজারো পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ।

সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কলাতলী ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, শীতের নরম সকালে পরিবার-পরিজন, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সৈকতের বালুকাবেলায় দাঁড়িয়ে নতুন বছরের সূর্যোদয় উপভোগ করছেন পর্যটকরা। কারও হাতে ক্যামেরা, কারও চোখে নতুন বছরের স্বপ্ন, সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন মুহূর্ত অতিবাহিত করছেন পর্যটকরা ‌

কুমিল্লার ধর্মপুর থেকে আশা লোকমান জাবেদ বলেন, “নতুন বছরের শুরুটা এমন শান্ত ও সুন্দর পরিবেশে করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, এই সূর্যোদয়ের মতোই পুরো বছরটা আলোকিত হবে।”

রংপুর থেকে আসা কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সূর্যোদয় দেখতে এসেছিলেন রঞ্জন দাস।

তিনি বলেন, “নতুন বছরে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন চাই। আজকের এই সূর্যোদয় আমাদের সেই আশার প্রতীক।”

নতুন বছরের প্রথম দিন ঘিরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল বাড়তি নজরদারি। ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

সৈকতে দায়িত্বরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুবুর রহমান বলেন “বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল থেকেই পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাতেও আমরা সতর্ক ছিলাম। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কেউ আতশবাজি ফাটানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রতিহত করা হয়েছে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “নতুন বছরকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশরা দায়িত্ব পালন করছে।”

দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা বলছেন, নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের এই দৃশ্য কক্সবাজারে যেন আবারও জানান দিল প্রকৃতি আর মানুষের মিলনেই শুরু হোক ২০২৬ সালের পথচলা।